বাংলাদেশে ওষুধ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানি ও নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন অব্যাহত রাখতে পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস পিএলসিকে ৩ কোটি ৭ লাখ ডলারের ঋণ দিচ্ছে আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স করপোরেশন (আইএফসি)।
বুধবার (১৯ আগস্ট) আইএফসির এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, আইএফসির এই সিনিয়র সিকিউরড ঋণ মূলত পপুলারের মার্কিন ডলারের কার্যকরী মূলধনের চাহিদা পূরণে ব্যবহার হবে। বিশেষ করে সক্রিয় ওষুধ উপাদান (এপিআই) এবং স্থানীয়ভাবে ওষুধ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল আমদানিতে এ অর্থ ব্যয় করা হবে।

আইএফসি জানিয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি এই অর্থায়নের ফলে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল আমদানির জন্য সময়মতো বৈদেশিক মুদ্রার জোগান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এতে দেশের ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থা আরও স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করছে সংস্থাটি।
বাংলাদেশে ব্যবহৃত অধিকাংশ ওষুধ স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত হলেও এ খাত এখনো প্রয়োজনীয় কাঁচামালের প্রায় ৯০ শতাংশ আমদানির ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে এপিআই আমদানিই দেশের ওষুধ শিল্পের অন্যতম প্রধান চাহিদা।
পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস বর্তমানে বাংলাদেশের শীর্ষ ১০ ওষুধ কোম্পানির একটি। প্রতিষ্ঠানটি ৮১৫টির বেশি পণ্য উৎপাদন করে এবং দেশের প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ৬০০ ফার্মেসি ও ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহ করে। কোম্পানিটিতে ১০ হাজারের বেশি কর্মী কাজ করছেন।
আইএফসির এই অর্থায়নের সঙ্গে আরও ৬ কোটি ৪১ লাখ ডলারের বেসরকারি মূলধনও যুক্ত হবে। ফলে বাংলাদেশের ব্যবসা খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে এ প্রকল্প ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আইএফসির সঙ্গে এই অংশীদারত্ব ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের শীর্ষ ওষুধ কোম্পানিগুলোর অন্যতম হওয়ার লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
আইএফসির এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের উৎপাদন, কৃষি ও সেবা খাতের আঞ্চলিক শিল্প পরিচালক কার্স্টেন মুলার বলেন, এই অংশীদারত্ব বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করার পাশাপাশি দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।
প্রকল্পের আওতায় পপুলারের হরমোন বিভাগ সম্প্রসারণ করা হবে। এতে প্রায় ৩৩০টি উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং উন্নত ওষুধ উৎপাদন প্রযুক্তিতে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ওই বিভাগে নারী কর্মীর অংশগ্রহণ অন্তত ৬০ শতাংশ বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

আইএফসি জানিয়েছে, এ উদ্যোগ বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০৩০ সালের মধ্যে ১৫০ কোটি মানুষের জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য এবং বাংলাদেশের ন্যাশনাল হেলথ কমপ্যাক্ট ২০২৫-এর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সূত্র : আইএফসি