বাংলাদেশে নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত শিশুদের পরিচর্যা ও পুনর্বাসন নিশ্চিতে দক্ষ পেশাজীবী তৈরির পাশাপাশি সচেতন অভিভাবক গড়ে তোলা জরুরি বলে মনে করেন বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। সেক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরোডিসঅর্ডার অ্যান্ড অটিজমের (ইপনা) উদ্যোগে ‘সার্টিফিকেট কোর্স অন নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার’র ষষ্ঠ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সনদপত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

অধ্যাপক সিদ্দিকী বলেন, বাংলাদেশে নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডারে আক্রান্ত শিশুদের সঠিক পরিচর্যা ও পুনর্বাসনের জন্য দক্ষ পেশাজীবী এবং সচেতন অভিভাবক তৈরি করা জরুরি। এ ধরনের প্রশিক্ষণ থেরাপিস্ট ও শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি অভিভাবকদেরও বৈজ্ঞানিক উপায়ে সন্তানদের সহায়তায় সক্ষম করে তুলবে।
ইপনা পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী আশরাফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. মুজিবুর রহমান হাওলাদার। তিনি বলেন, নিউরোডেভেলপমেন্টাল ডিজঅর্ডার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। একই সঙ্গে শিশুদের মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার রোধে পরিবারকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।

এ রোগ থেকে সুরক্ষায় গর্ভাবস্থায় মা ও শিশুর প্রতি বিশেষ যত্নশীল হওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. নাহরীন আখতার। তিনি বলেন, নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি এ বিষয়ে প্রচার-প্রচারণা ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন অধ্যাপক ডা. সৈয়দা তাবাসসুম আলম। ইপনার পরিচালক অধ্যাপক ডা. কাজী আশরাফুল ইসলাম কোর্সটি সফলভাবে সম্পন্নকারী শিক্ষার্থীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্র তুলে দেন।