এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত ও ধ্বংসের পাশাপাশি নিয়মিত নজরদারি কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদের সরাসরি সম্পৃক্ত করতে ‘ডেঙ্গু অ্যাম্বাসেডর ইনিশিয়েটিভ’ নামের একটি কর্মসূচি চালু করেছে ডেঙ্গু প্রিভেনশন ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (ডিপিএফবি)। এর মাধ্যমে স্কুল থেকে পরিবার এবং পরিবার থেকে সমাজে ডেঙ্গু প্রতিরোধের একটি ধারাবাহিক সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ রোববার রাজধানীর একাডেমিয়া স্কুলে ‘Empowering Students to Build Dengue-Safe Communities’ প্রতিপাদ্যে এই কর্মসূচির প্রথম পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এর লক্ষ্য শিক্ষার্থীদের এডিস মশার প্রজননস্থল শনাক্ত, নির্মূল ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো দক্ষ করে তোলা।

প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ স্কুল, বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল খুঁজে বের করবে এবং প্রতিবেশীদের সচেতন করবে। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, পুরোনো টায়ার ও ছাদে জমে থাকা পানি অপসারণের কার্যকর পদ্ধতি শেখানো হবে। যেসব স্থানে পানি সরানো সম্ভব নয়, সেখানে স্কুল কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে অনুমোদিত লার্ভিসাইড ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হবে।
উদ্যোক্তারা জানান, শিক্ষার্থীরা প্রজননস্থলের মানচিত্র তৈরি, হটস্পট চিহ্নিতকরণ এবং হাউস ইনডেক্স ও ব্রেটো ইনডেক্সের মতো বৈজ্ঞানিক সূচক ব্যবহার করে মশার প্রজনন পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবে। সচেতনতা, প্রতিরোধ ও ব্যক্তিগত সুরক্ষা এই তিন মূলনীতির ভিত্তিতে পরিচালিত এই কর্মসূচি পর্যায়ক্রমে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
ডিপিএফবি’র সাধারণ সম্পাদক চিকিৎসক মাসুদ খান বলেন, ”ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু মৌসুমি মশা নিধন যথেষ্ট নয়; এডিস মশার প্রজননস্থল নির্মূল, নিয়মিত বৈজ্ঞানিক নজরদারি এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। ডেঙ্গু প্রতিরোধ শুরু হোক স্কুল থেকে এবং তা ছড়িয়ে পড়ুক প্রতিটি পরিবার ও সমাজে।”