দেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন ও গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে বরাদ্দ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মানসিক রোগের ক্রমবর্ধমান প্রকোপ মোকাবিলায় চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি গবেষণা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনবল তৈরিতে গুরুত্ব দিতে হবে।
চিকিৎসকদের দক্ষতা উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, নতুন ৫০০ চিকিৎসক যোগদান করেছেন। তাদের উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য চীন, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি দেশে উন্নত রোবোটিক সার্জারির ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মানসিক রোগীদের পুনর্বাসনে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, মানসিক রোগীদের সঠিক চিকিৎসা, পরিচর্যা ও পুনর্বাসনের জন্য হাসপাতালের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। রোগের ক্রমবর্ধমান প্রকোপ মোকাবিলায় মানসম্মত চিকিৎসার পাশাপাশি গবেষণা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দক্ষ জনবল তৈরিতে বিশেষ নজর দিতে হবে।

এ সময় তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, পাবনা মানসিক হাসপাতালকে আর বিনোদনের ক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, মানসিক স্বাস্থ্য সংকট মোকাবিলায় গবেষণা কোনো অতিরিক্ত ব্যয় নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ। এই খাতে জাতীয় পর্যায়ে বৃহৎ পরিসরে গবেষণার জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ দিতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, মানসিক স্বাস্থ্যসেবাকে ঢাকাকেন্দ্রিক না রেখে জেলা পর্যায়ে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের সাহায্যে জেলা হাসপাতালগুলোতে নিরাপদ কাউন্সেলিং সেবা চালু করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ ঘরে বসেই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে পারেন। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পেশাজীবীদের দক্ষতা বাড়াতে স্বল্পমেয়াদি সার্টিফিকেট কোর্স চালুর ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফুন নাহারের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. এ কে এম আজিজুল হক এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ কার্যালয়ের হেলথ ইমারজেন্সি বিভাগের প্রধান অ্যান্টনি এশফেনি।