করোনা মহামারির আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই এবার গবাদিপশুর শরীর থেকে মানবদেহে সংক্রমণ ঘটানো শামোন্ডা ভাইরাসের খবর উদ্বেগ তৈরি করেছে। ফ্রান্সে ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তির শরীরে ভাইরাসটি শনাক্ত হওয়ার পর তার মৃত্যু হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।
তবে সরাসরি শামোন্ডা ভাইরাসটি ওই ব্যক্তির মৃত্যুর কারণ কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এছাড়া, মানুষের মধ্যে ভাইরাসটির ব্যাপক সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ারও কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, লিয়নের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই ব্যক্তির শরীরে শামোন্ডা ভাইরাস শনাক্ত হয়। তিনি গুরুতর অসুস্থ ছিলেন এবং তার রোগপ্রতিরোধক্ষমতা মারাত্মকভাবে দুর্বল ছিল। অক্টোবরের শুরুতে তার মৃত্যু হয়। কীভাবে তিনি আক্রান্ত হয়েছিলেন, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তবে সংক্রমিত ক্ষুদ্র রক্তচোষা পতঙ্গের কামড়ে তিনি আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কী এই শামোন্ডা ভাইরাস?
শামোন্ডা ভাইরাস অরথোবুনিয়াভাইরাস গোত্রের একটি ভাইরাস। ১৯৬৫ সালে নাইজেরিয়ায় গবাদিপশুর শরীরে এটি প্রথম শনাক্ত হয়। পরে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ ও জাপানে এর উপস্থিতি পাওয়া যায়। গরু, ছাগল, ভেড়া ও ঘোড়াসহ বিভিন্ন প্রাণী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে।

পশুর শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণে জ্বর, ডায়রিয়া, দুধ উৎপাদন কমে যাওয়া এবং প্রজননজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে গর্ভপাত ও ভ্রূণের জন্মগত ত্রুটির সঙ্গেও এর সম্পর্ক পাওয়া গেছে। সাধারণত কিউলিকয়ডিস গণের ক্ষুদ্র কামড়ানো পতঙ্গের মাধ্যমে প্রাণীদের মধ্যে ভাইরাসটি ছড়ায়।
মানুষের জন্য কতটা বিপজ্জনক?
শামোন্ডা ভাইরাসে আক্রান্ত মানুষের ঘটনা অত্যন্ত বিরল। ফ্রান্সের ঘটনাটি মানবসংক্রমণের প্রথম নথিভুক্ত ঘটনা হিসেবে সামনে এসেছে। ফলে মানুষের শরীরে ভাইরাসটির প্রভাব, রোগের তীব্রতা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে এখনো পর্যাপ্ত তথ্য নেই।
আক্রান্ত ব্যক্তির স্নায়বিক জটিলতার সঙ্গে ভাইরাসটির সম্পর্ক ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে তাঁর আগে থেকেই গুরুতর অসুস্থতা ও রোগপ্রতিরোধক্ষমতার দুর্বলতা ছিল। তাই শুধু ভাইরাস শনাক্ত হওয়ার তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
করোনার মতো মহামারির আশঙ্কা আছে?
এখন পর্যন্ত মানুষ থেকে মানুষে শামোন্ডা ভাইরাস ছড়ানোর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। করোনাভাইরাসের মতো ব্যাপক সংক্রমণ ঘটানোর সক্ষমতাও এ ভাইরাসের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ফ্রান্সের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মূল্যায়ন অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ জনগোষ্ঠীর জন্য কোনো জনস্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত হয়নি।

তবে মানুষের শরীরে ভাইরাসটির সংক্রমণ কীভাবে ঘটেছে, তা নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ। সংক্রমণের উৎস, ভাইরাসটির জিনগত বৈশিষ্ট্য এবং মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন কোনো ভাইরাসের মানবসংক্রমণ শনাক্ত হলে তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা জরুরি। তবে একটি বিচ্ছিন্ন সংক্রমণের ঘটনা থেকেই মহামারির আশঙ্কা করা ঠিক নয়। শামোন্ডা ভাইরাসের প্রকৃত ঝুঁকি বুঝতে আরও বৈজ্ঞানিক তথ্য ও গবেষণার ফলের অপেক্ষা করতে হবে।