চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে নিজ কার্যালয়ে অবরুদ্ধ আছেন। এতে তার স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিলে দুইজন চিকিৎসক দিয়ে তিন দফায় স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।
আজ মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) দুপুর ১টার দিকে একদল শিক্ষার্থী উপাচার্য কার্যালয়ের প্রধান গেট খুলে দিলে সাংবাদিকরা ভেতরে প্রবেশ করেন। এ সময় উপাচার্য সাংবাদিকদের জানান, তিনি বুকে ব্যথা ও মাথাব্যথা অনুভব করছেন এবং তার চিকিৎসা সহায়তা প্রয়োজন।
দুপুর দেড়টার দিকে চুয়েট মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসক মো. শাহাবুদ্দিনসহ একটি মেডিকেল টিম সেখানে পৌঁছায়। উপাচার্যকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর চিকিৎসক বলেন, তিনি আমাকে বুকে ব্যথার কথা কিছু বলেননি। তার পালস ও রক্তচাপ স্বাভাবিক পাওয়া গেছে (১২০/৮০)। তিনি হাসপাতালে যাওয়ার বিষয়েও কিছু বলেননি।
ডা. শাহাবুদ্দিন আরও জানান, উপাচার্য সুস্থ আছেন, তার কোনো শারীরিক সমস্যা নেই। তিনি লিখিত প্রতিবেদন দিয়ে এসেছেন। তবে দীর্ঘক্ষণ অবরুদ্ধ থাকায় তিনি কিছুটা অস্বস্তিতে আছেন। পরে মেডিকেল টিম ঘটনাস্থল ছেড়ে যায়।

এরপর দুপুর ২টা ১৫ মিনিটের দিকে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. টিপলু কান্তি দে সেখানে পৌঁছান। শিক্ষার্থীরা ফটক খুলে দিলে তিনি কার্যালয়ে প্রবেশ করেন।
উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে ডা. টিপলু সাংবাদিকদের বলেন, উপাচার্য আমাকে জানিয়েছেন, তার শরীরের বাঁ পাশে ব্যথা হচ্ছে। তার উচ্চ রক্তচাপ রয়েছে। পরীক্ষা করে তার রক্তচাপ ১৫০/১০০ পেয়েছি। তিনি আগে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ খেতেন।
তিনি আরও বলেন, উপাচার্য হাসপাতালে যেতে প্রস্তুত আছেন। তিনি স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে চান।
এদিকে, দুই চিকিৎসকের বক্তব্যে পার্থক্য থাকায় কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রশ্ন তোলেন। পরে ডা. শাহাবুদ্দিনকে আবার ডেকে আনা হলে দুই চিকিৎসক ফের উপাচার্যের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেন। দুপুর আড়াইটার দিকে তারা কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আসেন। এ সময় দুজন চিকিৎসকই নিজেদের আগের বক্তব্যে অনড় থাকেন।

অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমের নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন শুরু হয়। তিনি এর আগে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষক ছিলেন।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে সরিয়ে তাকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। অধ্যাপক সায়েমকে সরানোর প্রতিবাদে এবং তাকে পুনর্বহালের দাবিতে পরদিন থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করে আসছেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও একই দাবিতে ওইদিন থেকে কর্মবিরতি পালন করে আসছেন। এ কারণে ২০ দিন ধরে চুয়েটে ক্লাস-পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়নি। গতকাল সকাল ৯টার দিকে মাইক্রোবাসে করে ক্যাম্পাসে আসেন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। তালা ভেঙে নিজ কার্যালয়ে প্রবেশ করেন তিনি।